কিছুটা স্বস্তির পর আবারো দাম বাড়তে শুরু করেছে শীতকালীন সবজির। টমেটোর কেজি আর প্রতি পিস লাউয়ের দাম উঠেছে ১২০ টাকায়। অন্য সবজিতেও দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা বেড়েছে। ডিমের বাজার স্বস্তি দিলেও গত সপ্তাহের তুলনায় মাছ ও মাংসের দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে চাপে পড়ছেন ভোক্তারা। বাজারে নিয়মিত ও কার্যকর মনিটরিং জোরদারের দাবি তাদের।
গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সবজির বাড়তি দাম দেখা যায়। যদিও ঢাকার অন্যান্য বাজারের তুলনায় সাধারণত এখানে দাম কিছুটা কম থাকে। সরজমিনে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে প্রতি পিস লাউয়ের দাম ১০০-১২০ টাকা। শিম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, মুলা ৫০, প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ ও বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ও টমেটো ১০০-১২০ টাকা, শসা ৮০, বেগুনের দাম কেজিপ্রতি ৬০-৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ডিসেম্বরজুড়ে ঝাঁজ দেখানো পেঁয়াজের দাম আরো কমেছে। খুচরা পর্যায়ে দেশী পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। এক পাল্লা (পাঁচ কেজি) পেঁয়াজের দাম ২২০ টাকা এবং খুচরা প্রতি কেজি নতুন আলুর দাম ৩০ ও প্রতি পাল্লায় বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। দেশী রসুন প্রকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়।
বিক্রেতারা জানান, গত কিছুদিন থেকে সবজির দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতি কেজি সবজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। আড়ত থেকে তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বাজারে দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় আবারো পকেটে চাপ বাড়ছে ভোক্তাদের।
গতকাল কারওয়ান বাজারে মো. আসাদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত কিছুদিন সবজির দাম নাগালের মধ্যে ছিল। পাঁচ-সাতদিন ধরে আবার দাম কিছুটা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারির পুরোটা সময় বাজারে শীতকালীন সবজি থাকে। এমন ভরা মৌসুমে দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখি না। এখানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নজর দেয়া দরকার। দাম বাড়লে সাধারণ মানুষ এতে আক্রান্ত হবে।’
এদিকে কমেছে ডিমের দাম। প্রতি ডজন ব্রয়লারের ডিম এখন ১১০ টাকা। তবে মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। গতকাল ব্রয়লার মুরগি ১৭০-১৭৫ টাকা, সোনালি ২৫০-২৬০, কক ২২০-২৪০, গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ ও দেশী মুরগি ৫৭০-৬০০ টাকায় বিক্রি হয়।
মাছের দামেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। পাঙাশ, রুই ও তেলাপিয়ার দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩০০-৪৫০ ও তেলাপিয়া ১৮০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিসেম্বরের শেষদিকে মাঝারি ও মোটা চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। তবে গত এক সপ্তাহ দাম স্থিতিশীল ছিল। কারওয়ান বাজারের খুচরা চালের দোকানের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক দিনে চালের দাম বাড়েনি। সরু চাল ৭০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি চাল মানভেদে ৬০-৬৮ ও মোটা চালের দাম ৫৪-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’